বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আউটসোর্সিং এর ভূমিকা একটি বড় অংশ জুড়ে আছে তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। আর এই আউটসোর্সিংয়ের টাকাগুলো দেশে আনার প্রধান মাধ্যম ব্যাংকগুলো। কিন্তু গত কয়েকদিনের ব্যাংকিং জটিলতাগুলো বিব্রতকরই বটে।

ঘটনার সূত্রপাত

আমি মূলতঃ আমার ডাচ বাংলার একাউন্টই ব্যবহার করি। ঝিনাইদহে ডাচ বাংলা ব্যাংকের কোন শাখা না থাকায় যশোরে একাউন্ট করেছিলাম। ওদের সার্ভিস খারাপ না। কিন্তু আমার জন্য মূল সমস্যা টাকা উঠানো বা পাঠানো। ঝিনাইদহে কোন শাখা বা বুথ না থাকায় যশোর বা কুষ্টিয়ার স্মরণাপন্ন হতে হয়। উঠানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা গেছে কিন্তু একাউন্ট থেকে অন্য একাউন্টে টাকা পাঠাতে হলে ব্যাংকে যেতে হবে। ওদের ইন্টারনেট ব্যাংকিং (!) আছে কিন্তু ইন্টারনেটের মাধ্যমে এক একাউন্ট থেকে অন্য একাউন্টে ফান্ড ট্রান্সফারের কোন ব্যবস্থা নেই! হেড অফিসে ফোন করেছিলাম, তারা বললো- আপনার নিজেরই যদি একাধিক একাউন্ট থাকে তাহলে নিজের একাউন্টগুলোর মধ্যেই শুধু ফান্ড ট্রান্সফার করতে পারবেন। তারমানে সবগুলো একই ইউজারনেমের অধীনেই হতে হবে এবং খুব শিঘ্রই অন্য একাউন্টে ফান্ড ট্রান্সফার ব্যবস্থা চালু করারও কোন পরিকল্পনা তাদের নেই। তাই ব্র্যাক ব্যাংকে একটা একাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত নিলাম। কেননা ব্র্যাক ব্যাংকে অনলইনে ফান্ড ট্রান্সফারের ব্যবস্থাও আছে এবং ঝিনাইদহে ব্যাংক-বুথ দুটোই আছে।

 

বিপত্তির শুরু

করি করি করে অনেকদিন ধরেই একাউন্টটা করা হচ্ছিলো না। দুপুরে ঝিনাইদহের ব্র্যাক ব্যাংকে গেলাম একাউন্ট খুলতে। সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল কিন্তু ঝামেলাটা পাকালো পেশা। আমাকে দায়িত্বরত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসা করলেন-

– আপনার পেশা?

– আউটসোর্সিং

– সরি, আমাদের এখানে আউটসোর্সিংয়ের জন্য কোন অপশন নেই। আপনি অন্য কিছু বলুন।

– আমার পেশাই ওইটা, আমি অন্য কিছু কিভাবে বলবো!

– আচ্ছা ঠিক আছে (!), যে প্রতিষ্ঠানে চাকরী করেন সে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা বলেন।

– আমিতো কোন প্রতিষ্ঠানের হয়ে চাকরী করি না। আমি চুক্তিভিত্তিক কাজ করি এবং কাজ শেষ হলে চুক্তিও শেষ। আমি বড়জোর আপনাকে একটা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দিতে পারি যেখানে আমি মাসিক বেতন হিসেবে কাজ করি কিন্তু ওটার অফিস বাংলাদেশে না। ক্যালিফোর্নিয়াতে।

– আপনি কি ক্যালিফোর্নিয়াতেই থাকেন?

– জ্বি না, আমি ঝিনাইদহেই থাকি, ইন্টারনেটের মাধ্যমে অফিস করি।

– আসলে আমাদের এখানে এরকম কোন ব্যাবস্থা নেই। আপনাকে বাংলাদেশের ঠিকানা দিতে হবে।

এরকম কথপোকথন চলতেই থাকে কিন্তু সমাধান নেই।

 

ফলাফল

ঝিনাইদহে আমার একটা ছোটখাট ব্যবসা আছে। পুরোটা আমার না। আমার কিছুটা শেয়ার আছে। শেষমেষ বিরক্ত হয়ে তাকে বললাম ওই প্রতিষ্ঠানকেই নথিভূক্ত করতে এবং তাই করা হলো। এতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু কয়েকটি কারণে আমি ব্যাপারটা মানছি না।

প্রথমতঃ আমি অবশ্যই চাইবো আমার প্রাথমিক পেশাটাকেই নথিভূক্ত করতে। সেটা আমি কেন করতে পারবো না! দেশে চাকরী এককালে আমিও করেছি এবং চাকরীর চাইতে আমার বর্তমান পেশাটাকেই আমার বেশী ভাল লেগেছে এজন্যই আমি চাকরী ছেড়ে এ পেশায় এসেছি।

দ্বিতীয়তঃ ব্যাংকিং হিসেব এবং প্রতিষ্ঠানের ইনকাম ট্যাক্সের একটা ব্যাপার থাকে যদিও সম্ভবত সেটা এখনো বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়। ধরা যাক, ব্যাংকে একাউন্ট খোলার সময় আমি আমার মাসিক আয়ের অংক দিয়েছি X (আমার মাসিক আয়) এবং প্রতিষ্ঠানে আমার মতো আরো দু’জনের শেষার আছে। তাহলে প্রতিষ্ঠানের মাসিক আয় হবে (x+x+x)। কিন্তু উক্ত প্রতিষ্ঠানটির ইনকাম ট্যাক্সের হিসেব করতে গেলে তখনতো অবশ্যই এ অংকের সাথে মিলবে না কেননা ওই প্রতিষ্ঠানের আয়ের সাথে আমার এ আয়ের অংকের কোন মিল নেই। এখানে বলা যেতে পারে আমি কেন শুধুমাত্র ওই প্রতিষ্ঠান থেকে আমার আয়ের হিসেব দিলাম না? তাহলেইতো ঝামেলা থাকতো না। কিন্তু আসলে কি তাই? আমার মনে হয় তাতে আরো ঝামেলা বাড়তো। কেননা তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমার দেখানো মাসিক আয়ের চাইতে কয়েকগুন বেশী টাকা প্রতিমাসে আমার ব্যাংক এ্যাকাউ্ন্ট থেকে লেনদেন হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসবে অতিরিক্ত টাকাগুলো আসছে কোথা থেকে? কোন অবৈধ পথে নয়তো? প্রশ্নটা সোজা। কিন্তু উত্তরটা দিতে গেলে আবারো এ গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই ঘটনার অবতারণা হবে।

তাই আমার মনে হয়ে ব্যাংকে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটা অপশন করার সময় এসে গেছে।

লিখেছেন মামুন সৃজন

পেশায় ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার। দিনের শুরু থেকে শেষ সব খুটিনাটি অনলাইন কেন্দ্রিক। বাকি সময়টা কাটে ব্লগ লিখে নয়তো পড়ে। ব্যক্তি হিসেবে এতটাই অলস যে, নিজের ব্লগের খোঁজ রাখারও সময় নেই...

মন্তব্য করুন